ইমু পাখির বাচ্চার দাম কত। ইমু পাখি কোথায় থাকে

অনেকেই ইমু পাখি পালন করতে চান। তবে আগে জানা দরকার ইমু পাখির ডিমের দাম ও ইমু পাখির বাচ্চার দাম কত। পাখির বাচ্চার দাম জায়গাভেদে, বাজারের চাহিদা ও মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো ইমু পাখির বাচ্চার দামের বিষয়টি। ইমু পাখির বাচ্চার মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, কোন কোন বিষয়ের ওপর তা নির্ভরশীল এবং ভালো মানের ইমু পাখির বাচ্চা সঠিক দামে কেনার উপায় ,এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে তুলে ধরা হবে।

 

যদি আপনি ইমু পালন করতে চান বা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে এই তথ্যগুলো আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

ইমু পাখি কি

ইমু পাখি এক ধরনের বড় আকারের পাখি, তবে এটি উড়তে সক্ষম নয়। এরা স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত নিরীহ এবং সাধারণত দলবদ্ধ ভাবে চলাফেরা করে। মুরগির মতো এরা মাঠে ঘুরে বেড়ায় এবং খাদ্য হিসেবে ঘাস, পাতা খেয়ে থাকে।

ইমু পাখি দেখতে কেমন

জন্মের পর ইমু পাখির ছানা গুলোর রং হালকা বাদামী থাকে। প্রায় চার মাস বয়সের পর তাদের গায়ের রং ধীরে ধীরে গাঢ় বাদামী হয়ে যায়। এরপর, প্রায় দেড় বছর বয়স হওয়ার পর তাদের গায়ের রং পুরোপুরি বাদামী হয়ে যায়।

আকারের দিক থেকে এরা বেশ লম্বা হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক ইমুর উচ্চতা প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওজনের দিক থেকেও এরা ভারী, একটি ইমুর গড় ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজির মধ্যে থাকে।

শারীরিক পূর্ণতা লাভ করতে ইমু পাখির সাধারণত ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। প্রজননক্ষমতা বজায় থাকে প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত এবং সঠিক যত্ন পেলে একটি ইমু ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

এই পাখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তাপমাত্রার চরম পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম। চরম ঠান্ডা কিংবা প্রচণ্ড গরম—দুই পরিস্থিতিতেই তারা টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ইমু পাখির জন্য উপযুক্ত, তাই এ দেশে তাদের বেঁচে থাকার কোনো অসুবিধা হয় না।

ইমু পাখির বাচ্চার দাম

এক জোড়া ইমু পাখির বাচ্চা সাধারণত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় কেনা-বেচা হয়। তবে, ১২ থেকে ১৪ মাস পর এক জোড়া ইমুর দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। শুধু তাই নয়, এদের মাংসও বিক্রি করা যায়। এমনকি, ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়েও বিক্রি করে অনেকে বাড়তি আয় করেন।

ইমু পাখির বাচ্চার দাম নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে বয়স, স্বাস্থ্য, জাত এবং বাজার চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত একদিন বয়সী ইমু পাখির বাচ্চার দাম তুলনামূলক কম হয়, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটির মূল্যও বেড়ে যায়।

একটি ইমু পাখির জীবন চক্র বেশ দ্রুতগতির। জন্মের পর থেকেই এদের শারীরিক বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৪০০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া একটি ইমু পাখি ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে প্রায় ৬০ কেজি বা তার বেশি ওজন অর্জন করতে পারে।

ইমু পাখির ডিমের দাম

ইমু পাখির ডিমের দাম ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। ইমু পাখির ডিম গুলো বেশ বড় আকারের হয়, যা মুরগির ডিমের তুলনায় প্রায় দশ থেকে বারো গুণ বড়। ডিমগুলোর রং সবুজ বর্ণের হয়। প্রজনন কালে, একটি স্ত্রী ইমু পাখি প্রায় তিন থেকে পাঁচ দিন পর পর ডিম পাড়ে।

প্রায় ১৮ মাস বয়সে একটি ইমু পাখি ডিম দেওয়া শুরু করে। ইমু পাখির ডিম পাড়ার ক্ষমতা বেশ উল্লেখযোগ্য। তারা প্রথমবার ১৮ থেকে ২০টি ডিম পাড়ে এবং পরের বার ৩০ থেকে ৩৫টি ডিম পাড়ে। এমনকি কিছু কিছু ইমু পাখি বছরে ৫০ টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে বলে জানা যায়। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই ছয় মাস তারা ডিম পাড়ে।

ডিম গুলো বেশ বড় আকারের হয় এবং এর ওজন প্রায় ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ইমু পাখির ডিম গুলো সবুজ বা হালকা নীল রঙের হয়ে থাকে।

ইমু পাখির ডিম কি খাওয়া যায়

ইমুর ডিম বড় আকারের এবং পুষ্টিতে ভরপুর, তাই অনেকেই জানতে চান, ইমু পাখির ডিম কি খাওয়া যায়? হ্যাঁ, ইমু পাখির ডিম খাওয়া যায় এবং এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

বাচ্চা ইমু পাখির দাম

এক জোড়া ইমু পাখির বাচ্চা সাধারণত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে, এই দাম বিভিন্ন কারণে ভিন্ন হতে পারে। যেমন – পাখির বয়স, স্বাস্থ্য, পাখির জাত এবং বাজারের চাহিদা ইত্যাদি।

যখন এই বাচ্চাগুলো ১২ থেকে ১৪ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন তাদের দাম বেড়ে যায়। এক জোড়া ইমুর দাম তখন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এর কারণ হলো, এই সময়ে তারা মাংস উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর মূল্যও বৃদ্ধি পায়।

ইমু পাখি খাওয়া কি হালাল

ইমু পাখি খাওয়া হালাল। ইসলামে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পাখির মাংস সাধারণত হালাল হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা বৈধ হতে হলে ইসলামী বিধি অনুযায়ী জবাই করতে হয়। এই নিয়মের আওতায় ইমু পাখিও পড়ে এবং যথাযথ উপায়ে জবাই করা হলে এর মাংস সম্পূর্ণরূপে হালাল ও ভক্ষণযোগ্য।

ইমু পাখির মাংস পুষ্টিগুণের দিক থেকে অন্যান্য পাখির মাংসের মতোই সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকলেও ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, যা স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি ভালো খাদ্য বিকল্প করে তোলে।

ইমু পাখির মাংসের উপকারিতা

ইমু পাখির মাংস বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর প্রধান কারণ হলো, এই মাংস প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত চর্বিহীন। শুধু তাই নয়, এদের চামড়ার নিচে একটি বিশেষ চর্বির স্তর থাকে, যা বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। এছাড়াও, বাংলাদেশের পরিবেশে ইমু পাখির রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার খুবই কম।

ইমু পাখি কোথায় থাকে

ইমু পাখি মূলত অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পাখি হলেও বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের পালন করা হয়। সাধারণত এরা তৃণভূমি ও খোলা বনভূমিতে বসবাস করতে পছন্দ করে। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করার স্বভাব থাকায় এরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায় এবং খাবার সংগ্রহ করে। ইমু পাখির খাদ্য তালিকায় প্রধানত ঘাস, পাতা, শস্য ও বীজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে মাঝে মাঝে তারা পোকামাকড় ও ছোট প্রাণীও খেয়ে থাকে।

ইমু পাখি পালন

ইমু পাখির বাচ্চা পালন করা মজার হলেও যত্ন নেওয়া খুব দরকার। তাদের ভালো খাবার, নিরাপদ জায়গা আর ঠিকমতো তাপমাত্রা দিতে হয়। ইমু বাচ্চারা দ্রুত বড় হয়, তাই তাদের দেখভাল ঠিকঠাক হওয়া জরুরি।

ইমু পাখি, উড়তে অক্ষম হলেও ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে দৌড়াতে পারে। এদের পায়ের লাথি এতটাই শক্তিশালী যে, তা গুরুতর আঘাত এমনকি মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই এদের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা উচিত।

 

শেষকথা,যদি আপনি ইমু বাচ্চা পালন করতে চান, তাহলে তাদের খাবার, যত্ন ও স্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে জানতে হবে। ভালোভাবে যত্ন নিলে তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।

আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে ইমু পাখির বাচ্চার দাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়েছেন।

Leave a Comment